বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী বছরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে অংশ নিতে না দিলে দলের লাখ লাখ সমর্থক সেই নির্বাচন বয়কট করবে।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) নয়াদিল্লিতে নির্বাসনে থাকা শেখ হাসিনা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইমেইলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন। এটি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গণমাধ্যমে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া।
শেখ হাসিনা বলেন,
“আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা শুধু অন্যায্যই নয়, বরং আত্মঘাতী। একটি কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থা চাইলে আপনি লাখ লাখ মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারেন না।”
তিনি আরও জানান, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গঠিত সরকারের আমলে তিনি দেশে ফিরবেন না, বরং ভারতেই অবস্থান করবেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে ছাত্র নেতৃত্বে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী অভ্যুত্থানের সময় শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। বর্তমানে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ পরিচালনা করছে, যারা আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে।
রয়টার্সকে শেখ হাসিনা বলেন,
“আমরা এখনো আশা করি শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং আমরা নিজেরাই নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ পাবো।”
তবে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের জন্য তিনি বা তার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কোনো নেপথ্য যোগাযোগ করছেন কিনা, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি।
শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলা চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তবে তিনি এসব অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাটক বলে অভিহিত করে বলেছেন,
“এগুলো ক্যাঙ্গারু কোর্টের মাধ্যমে সাজানো মামলা। আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেয়া হয়নি।”
তিনি জানান, দিল্লিতে তিনি স্বাধীনভাবে বসবাস করছেন, তবে পরিবারের সহিংস অতীতের কারণে সতর্ক রয়েছেন।
শেখ হাসিনা বলেন,
“বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কোনো ব্যক্তি বা পরিবার নয়— সংবিধান ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই তা নির্ধারণ করবে।”
📍 উল্লেখ্য:
১৯৭৫ সালের এক সামরিক অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ পরিবারের অধিকাংশ সদস্য নিহত হন। তিনি ও তার বোন শেখ রেহানা তখন বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।